রংপুরের জনসমুদ্রে তারেক রহমান: ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ও গনভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিন

রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাঁহ ময়দান আজ এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল, যেখানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান চব্বিশের বিপ্লবের বীর শহীদ আবু সাঈদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক নতুন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। শুক্রবার রাতে আয়োজিত এই নির্বাচনি জনসভায় তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কারের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব। তারেক রহমানের মতে, এই ভোট কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং হাজারো ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল ঘরে তোলার একটি চূড়ান্ত পদক্ষেপ। রাত ৮টা ৩১ মিনিটে তিনি যখন সভামঞ্চে উপস্থিত হন, তখন দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা হাজারো নেতা-কর্মীর মুহুর্মুহু স্লোগানে পুরো রংপুর শহর প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তারেক রহমান রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে বিএনপির স্বচ্ছ ও সুদৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিএনপি অনেক আগেই ৩১ দফার এক বিস্তারিত সংস্কার প্রস্তাব জাতির সামনে পেশ করেছিল এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কমিশনের কাছেও তারা তাদের সুনির্দিষ্ট মতামত প্রদান করেছে। সংস্কারের সব বিষয়ে সবার ঐক্যমত থাকা বাধ্যতামূলক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো কোনো প্রস্তাবে বিএনপির দ্বিমত থাকতে পারে এবং সেটি তারা জনগণের কাছে খোলাখুলিভাবেই প্রকাশ করেছেন। কোনো লুকুচাপা বা গোপনীয়তার রাজনীতিতে বিএনপি বিশ্বাসী নয় দাবি করে তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ জুলাই অভ্যুত্থানের বীরেরা যে গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতেই তাঁরা ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছেন। শহীদদের এই আত্মত্যাগের ঋণ শোধ করতে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।

নির্বাচনি এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুরো রংপুর বিভাগে এক অভাবনীয় উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকেই কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও নীলফামারীসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে লাঠিসোঁটা ও দলীয় পতাকা হাতে মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা জনসভাস্থলে সমবেত হতে থাকেন। মাঠ উপচে পড়ে মানুষের ঢল আশপাশের সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে। রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভাটি নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ছিল সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে। পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড দিয়ে প্রতিটি প্রবেশপথে তল্লাশি চালানো হয়। এমনকি জনসভার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আকাশপথে ড্রোনের ব্যবহার এক আধুনিক ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চিত্র ফুটিয়ে তোলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top