দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় অর্থাৎ প্রায় ১৪ বছর পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আকাশপথের যোগাযোগ পুনরায় স্থাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট করাচির উদ্দেশ্যে যাত্রা করার মাধ্যমে এই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট বিজি-৩৪১ এদিন রাত ঠিক ৮টায় ঢাকা ত্যাগ করে, যা দুই দেশের সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি উদযাপন করতে বিমানবন্দরে একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে বিমানের প্রথম যাত্রায় অংশ নেওয়া ১৫০ জন যাত্রীকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানো হয়।
বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই রুটটি পুনরায় চালু হওয়ায় কেবল যাতায়াতের সুবিধা বাড়বে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই রাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, উচ্চশিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। নিয়মিত সূচি অনুযায়ী, শীতকালীন সময়ে প্রতি বৃহস্পতিবার ও শনিবার ঢাকা থেকে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ফ্লাইটটি করাচির উদ্দেশ্যে রওনা দেবে এবং সেখানে পৌঁছাবে রাত ১১টায়। ফিরতি ফ্লাইটটি করাচি থেকে শুক্রবার ও রবিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে যাত্রা শুরু করে ভোর ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করবে। এই নিয়মিত যাতায়াত ব্যবস্থাটি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও পর্যটন খাতের গতিশীলতা বাড়াতে এবং জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই যাত্রার শুভ সূচনা করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে পাকিস্তানের হাই কমিশনার ইমরান হায়দার এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মোঃ সাফিকুর রহমান। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই কার্যক্রম শুরু হওয়াকে আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।







