মিরপুরে নারী সমাবেশে জামায়াত আমীরের হুঁশিয়ারি: মায়েদের ওপর হামলা হলে আমরা আর চুপ থাকব না

রাজধানীর মিরপুরে মণিপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল মহিলা সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান দেশের নারী সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কর্মক্ষেত্রে তাঁদের অংশগ্রহণের বিষয়ে এক বৈপ্লবিক রূপরেখা তুলে ধরেছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, নারীদের সম্মান ও ইজ্জত তাঁদের জীবনের চেয়েও মূল্যবান। যারা মা-বোনদের ওপর হাত তোলার স্পর্ধা দেখিয়েছে, তাদের অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় এই পরিস্থিতি আর নীরবে সহ্য করা হবে না। জামায়াত আমীর স্পষ্ট করে দেন যে, নারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তাঁর দল আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না বরং রাজপথে গর্জে উঠবে। তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সাবধান করে দিয়ে বলেন, হয় নারীদের যথাযথ সম্মান করতে হবে, নতুবা ভবিষ্যতে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায়ভার নিতে প্রস্তুত থাকতে হবে।

সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান কেবল রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং ক্ষমতায় গেলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নে তাঁর দলের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও ব্যক্ত করেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বড় শহরগুলোতে যাতায়াতের দুর্ভোগ কমাতে নারীদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হবে। কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে বেবি কর্নার, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার এবং মানসম্মত ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। তাঁর মতে, মায়েরা যাতে তাঁদের দক্ষতা ও মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

নারীদের কর্মঘণ্টা নিয়ে জামায়াতের প্রস্তাবিত নীতিমালার বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান এক তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি বলেন, যেসব মা সন্তান লালন-পালন করছেন, তাঁদের জন্য জামায়াত কর্মঘণ্টা কমিয়ে পাঁচ ঘণ্টা করার প্রস্তাব করেছে। এই প্রস্তাব নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তান বড় করার গুরুদায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অসংখ্য মেধাবী নারী তাঁদের পেশাজীবন ত্যাগ করতে বাধ্য হন। কর্মঘণ্টা কমিয়ে পাঁচ ঘণ্টা করা হলে এবং কর্মস্থলে শিশুদের রাখার সুব্যবস্থা থাকলে এই নারীরা ঝরে না পড়ে বরং পেশায় টিকে থাকতে পারবেন। এই সময়ের ব্যবধানে যে ঘাটতি তৈরি হবে, তার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, মায়েদের ওপর আট ঘণ্টার কাজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া বড় ধরনের অবিচার। মায়েদের রাষ্ট্রের বুনিয়াদ হিসেবে অভিহিত করে তিনি সমাজে প্রকৃত সুবিচার কায়েম করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top