সাতক্ষীরায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের এক নতুন রূপরেখা তুলে ধরেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি ঘোষণা করেন যে, আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত জয়লাভ করলে অতীতে যারা অন্যায় বা জুলুম করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। বরং বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে এবং সুন্দর সমাজ গড়ার লক্ষে সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়ার এক উদার রাজনৈতিক নীতি গ্রহণ করবে তাঁর দল। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই ক্ষমা কোনোভাবেই দুর্নীতিবাজ বা কালো টাকার কারবারিদের জন্য প্রযোজ্য হবে না। যারা অবৈধ পথে অর্থের পাহাড় গড়েছে বা জনসম্পদ লুণ্ঠন করতে হাত বাড়াবে, তাদের সেই হাত শক্তভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তিনি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান বাজারের অস্থিরতা এবং সিন্ডিকেট ব্যবসার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলা সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে এবং একটি ইনসাফ বা ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদের সম্মান ও ইজ্জত রক্ষায় দলটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, তাঁর দল কোনো বিদেশি বা দেশি আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করবে না। এছাড়া বর্তমান সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন যে, একদিকে উন্নয়নের প্রচার চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী দলের নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও তাদের মর্যাদাহানি করা হচ্ছে, যা আধুনিক গণতান্ত্রিক সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াত আমীর বলেন, বর্তমানের যুবসমাজ পুরোনো, জীর্ণ ও পচা রাজনীতির ধারা থেকে বেরিয়ে এসে একটি সত্যিকারের সংস্কার চায়। তারা জুলুমের বদলে ইনসাফ দেখতে চায়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘হ্যাঁ ভোটের’ পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের লড়াইয়ে সবাইকে শামিল হওয়ার অনুরোধ করেন। জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে এই সভায় দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। সভায় সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় ন্যায়বিচার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।







