আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ কে কেন্দ্র করে নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা গণভোটের প্রচার-প্রচারণা চালাবেন ঠিকই, তবে কোনোভাবেই তারা কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে কাজ করতে পারবেন না। আইনগতভাবে তারা কোনো পক্ষ-বিপক্ষ অবলম্বন না করে একটি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে বাধ্য। নির্বাচন কমিশনের মূল লক্ষ্য হলো জনগণকে গণভোটের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা এবং প্রচারণার মাধ্যমে বিষয়টি জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়া, কিন্তু ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো পক্ষকে প্রভাবিত করা কর্মকর্তাদের দায়িত্বের পরিপন্থী।
মাঠ পর্যায়ের নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শঙ্কা থাকলেও নির্বাচন কমিশন বর্তমানে কোনো বড় ধরনের ঝুঁকি দেখছে না বলে জানিয়েছেন এই কমিশনার। তিনি উল্লেখ করেন যে, কমিশনের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ এবং মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শন প্রতিবেদন অনুযায়ী নির্বাচনি পরিবেশ এখন পর্যন্ত যথেষ্ট সন্তোষজনক। ভোটারদের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং একটি ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং কোস্টগার্ডের সদস্যরাও মোতায়েন থাকবেন। এমনকি এই বিশাল কর্মযজ্ঞে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিএনসিসিকেও প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয়েছে। প্রার্থীরা কোনো অভিযোগ নিয়ে আসলে কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে তথ্য প্রদান করে কমিশনার জানান, গত ৮ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ১৪৪টি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ৯৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়েছে ৯ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা। এবারের নির্বাচনে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়ই আচরণবিধি মেনে চলার একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করেছেন, যার ফলে মাঠের পরিবেশ অতীতে যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সুশৃঙ্খল এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের সময় মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যান চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ সম্পর্কেও তিনি সকলকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন।







