নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন। হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এই সভায় তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট পক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি ভোটারদের অত্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের দিন ভোর থেকেই সজাগ থাকতে হবে। ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বিশেষভাবে পরামর্শ দেন যেন সকলে তাহাজ্জুদ ও ফজরের নামাজ আদায় করে অতি দ্রুত ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন এবং ভোটের ফলাফল বা হিসাব যাতে পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়, সে ব্যাপারে সজাগ থাকেন।
হাতিয়া অঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা নদীভাঙন নিয়ে তারেক রহমান অত্যন্ত ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপি সরকার গঠন করলে এই এলাকার নদীভাঙন রোধে টেকসই ব্লক বাঁধ নির্মাণ এবং বেড়িবাঁধ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে, যা কেবল মানুষের জানমালের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না বরং এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেও বাড়িয়ে তুলবে। তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে এসব সমস্যার তালিকা তৈরি করেছেন বলে জানান এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে নির্বাচনের পর বিজয়ী হয়ে তিনি সরাসরি হাতিয়াবাসীর সাথে সাক্ষাৎ করতে আসবেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে জনগণের ক্ষমতার কথা; তিনি দাবি করেন যে বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই হলো সাধারণ মানুষের হাতে রাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষমতা ফিরে আসা।
নারীদের উন্নয়নের গর্বিত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান ফ্যামিলি কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালুর অঙ্গীকার করেন। নোয়াখালী-৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান শামিমকে স্থানীয় জনগণের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তাকে জয়যুক্ত করার উদাত্ত আহ্বান জানান। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলোর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য রাখেন এবং নির্বাচনী লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।







