ভোটের ময়দানে ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষক: ত্রয়োদশ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কূটনীতিকদের ব্রিফিং

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ঐতিহাসিক গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে, যেখানে নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে বিদেশি কূটনীতিক, জাতিসংঘের প্রতিনিধি এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সামনে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির চিত্র তুলে ধরেছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। এই নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর ব্যাপক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। তিনি জানিয়েছেন যে, মোট ৮১টি দেশীয় নিবন্ধিত সংস্থা থেকে সাড়ে ৫৫ হাজারেরও বেশি পর্যবেক্ষক মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও আন্তর্জাতিক মহলের নজরদারি নিশ্চিত করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক বিদেশি পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একটি সুস্থ ধারার রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। মোট ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যেখানে প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি। দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীও এই নির্বাচনে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করবেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই ভোটগ্রহণ চলবে। আধুনিক প্রযুক্তির চেয়ে বরং চিরাচরিত ব্যালট পেপার এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমেই এই বিশাল ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো সংশয় না থাকে।

কূটনৈতিক মিশনের প্রধানদের সাথে এই মতবিনিময় সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনের নির্ভরযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলকে আশ্বস্ত করা। নির্বাচন কমিশনের এই বিশাল আয়োজন এবং রেকর্ড সংখ্যক পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি এটিই প্রমাণ করে যে, দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্বাচনে জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। গণতান্ত্রিক এই উত্তরণকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। এই নির্বাচন ও গণভোট কেবল একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেও এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top