আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে তার জন্য সরাসরি আওয়ামী লীগকে দায়ী করার ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। রবিবার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি জনসমক্ষে প্রদত্ত বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ধরনের উসকানিমূলক বার্তা দিয়েছেন, তা মূলত আসন্ন নির্বাচন বানচাল করার একটি সুগভীর ষড়যন্ত্র। এই বক্তব্যে তিনি বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার সরাসরি আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তাঁর অনুসারীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার প্ররোচনা দিয়েছেন বলে সরকার মনে করে। এই উসকানিকে কেবল রাজনৈতিক বক্তৃতা নয়, বরং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছে বর্তমান প্রশাসন।
নয়াদিল্লির মাটিতে বসে বাংলাদেশের একজন দণ্ডিত ও পলাতক আসামিকে এমন বিদ্বেষমূলক এবং রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় ভারত সরকারের প্রতি গভীর ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের স্পষ্ট পরিপন্থী’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার মনে করে, ভারতের মতো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রাজধানীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রচলিত রীতিনীতি, একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার যে মূলনীতি রয়েছে, তার চরম লঙ্ঘন। এটি বাংলাদেশের আপামর জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রতি একটি সুষ্পষ্ট অবমাননা। এমন ঘটনা ভবিষ্যতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক এবং বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের এই বেপরোয়া ও ধ্বংসাত্মক মানসিকতাই প্রমাণ করে যে, কেন অন্তর্বর্তী সরকারকে এই সংগঠনটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক উসকানি মূলত নির্বাচনের দিন ও তার আগে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির নীল নকশা মাত্র। সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যেকোনো মূল্যে এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে এবং নির্বাচনি মাঠে সাধারণ মানুষের জানমালের বিন্দুমাত্র ক্ষতি হলে তার পুরো দায়ভার আওয়ামী লীগকেই বহন করতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীদের রুখতে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সচল রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার পুনরায় তাঁদের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাঁকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার জন্য বারবার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হলেও ভারত এখন পর্যন্ত সেই আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পালন করেনি। এর বদলে নিজ ভূখণ্ড ব্যবহার করে তাঁকে দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ানো হচ্ছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে কণ্টকাকীর্ণ করছে। অন্তর্বর্তী সরকার মনে করে, শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার স্বার্থে বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া জরুরি।







