আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারলে উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রংপুরের পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত ১০ দলীয় ঐক্য জোটের এক বিশাল নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এই সংকল্প ব্যক্ত করেন। জামায়াত আমির অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন যে, উত্তরবঙ্গের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের চাবিকাঠি হলো তিস্তা নদী, আর তাই নদীটির হারানো জীবন ফিরিয়ে আনতে তাদের সরকার প্রথমেই তিস্তায় কোদাল বসাবে। ভূ-রাজনৈতিক বা আন্তর্জাতিক কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে কেবল দেশের মানুষের স্বার্থেই এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন যে, গত ১৭ বছর এ দেশের মানুষ চরম ফ্যাসিবাদী শাসনের কবলে পিষ্ট হয়েছে। মানুষের মৌলিক ও মানবিক অধিকারগুলো ভুলুণ্ঠিত করা হয়েছে এবং দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে ‘বেগমপাড়া’ তৈরি করা হয়েছে। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের রক্ত ঝরানো, আলেম-ওলামাদের ওপর নির্যাতন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি তীব্র নিন্দা জানান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দেশে ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না।
উত্তরাঞ্চলের সুষম উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে জামায়াত আমির দিনাজপুরকে সিটি কর্পোরেশন করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং উত্তরবঙ্গকে দেশের কৃষিশিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখান। তিনি বলেন, প্রয়োজনে উত্তরবঙ্গে বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। বেকারত্ব দূর করার বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি হলো, বেকার ভাতা নয় বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেশের তরুণ-তরুণীদের প্রকৃত সম্পদে পরিণত করা। তাঁর মতে, বেকার ভাতা মানুষের কর্মস্পৃহা নষ্ট করে দেয়, তাই তারা প্রতিটি নারী ও পুরুষের যোগ্যতানুযায়ী সম্মানজনক কাজ নিশ্চিত করতে চান। নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি বলেন যে, যোগ্যতা থাকলে নারীরা ঘরের বাইরেও সম্মানের সাথে কাজ করবে, যেমনটি ইসলামের সোনালী যুগেও দেখা গেছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক ঐক্যের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় ছাঁচে (যেমন—পাকিস্তান বা ইরান) চলবে না, বরং এটি হবে একটি গর্বিত ও স্বাধীন রাষ্ট্র যেখানে সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ও রিজিক নিয়ে বসবাস করবে। কোনো নতুন দলকে তাদের জোটে আসতে হলে তিনটি কঠিন শর্ত পালনের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। শর্তগুলো হলো—সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত থাকা, বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ না করা এবং গত ৫৪ বছরের প্রথাগত রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে নতুন ও স্বচ্ছ ধারার রাজনীতির চর্চা করা। উত্তরবঙ্গের মানুষের শান্তশিষ্ট স্বভাবের প্রশংসা করে তিনি সবাইকে মিথ্যে ও প্রলুব্ধকর ওয়াদার পরিবর্তে সৎ নেতৃত্বের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।







