প্রধান উপদেষ্টার জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন: ‘দিশাহারা জাতির পথপ্রদর্শক হবে এই স্মারক’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা এবং বিগত ১৬ বছরের দুঃশাসনের কালপঞ্জি ধরে রাখতে গণভবনে নির্মিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ পরিদর্শন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে তিনি জাদুঘরটি পরিদর্শনে যান এবং সেখানে সংরক্ষিত চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ইতিহাস ও শেখ হাসিনা সরকারের পতনকালীন নানা চিত্র ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁর সাথে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতা, সরকারের উপদেষ্টা মণ্ডলী, গুমের শিকার পরিবারের সদস্য এবং অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ আরও অনেকে।

পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্মিত ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন, যেখানে বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলের গুম, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার লোমহর্ষক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। জাদুঘরটিতে শহীদদের রক্তমাখা পোশাক, স্মৃতিচিহ্ন, গুরুত্বপূর্ণ দলিল এবং আন্দোলনের সময়কার অডিও-ভিডিওর পাশাপাশি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরিদর্শন শেষে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই উদ্যোগকে বিশ্বের এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের রক্ত তাজা থাকতেই এই জাদুঘর নির্মাণ সম্ভব হয়েছে, যা ভবিষ্যতে জাতি পথ হারালে সঠিক দিশা দেখাবে। তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিক ও শিক্ষার্থীকে এখানে এসে অন্তত একটি দিন কাটানোর আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারে কী নৃশংসতার মধ্য দিয়ে এ জাতিকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে হয়েছে।

জাদুঘরের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে তথাকথিত ‘আয়নাঘর’ বা গোপন টর্চার সেলের আদল। প্রধান উপদেষ্টা পরামর্শ দেন যে, দর্শনার্থীরা যেন আয়নাঘরের ভেতরে কিছু সময় কাটানোর সুযোগ পায়, যাতে তারা বন্দিদের ওপর চালানো অবর্ণনীয় নির্যাতনের মাত্রা কিছুটা হলেও উপলব্ধি করতে পারে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, নিরস্ত্র তরুণরা যেভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক পেতে দিয়েছিল, তা থেকে সাহসিকতার শিক্ষা নিতে হবে। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নির্দেশনায় এবং কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব ও স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম খানের তত্ত্বাবধানে রেকর্ড সময়ে এই জাদুঘরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উপদেষ্টা ফারুকী জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই জাদুঘরটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং এটি বাংলাদেশের রাজনীতি ও ইতিহাসের গবেষণায় এক আকর হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top