জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সরে যাওয়াকে কোনো ষড়যন্ত্র নয়, বরং নিছক ‘বোঝাপড়ার ঘাটতি’ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। মামুনুল হক অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, এই পরিস্থিতির পেছনে কোনো তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন বা গোপন ইশারা কাজ করছে না। তাঁর মতে, বৃহৎ একটি রাজনৈতিক ঐক্য গড়তে গেলে অনেক সময় বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বয় করতে গিয়ে কিছু দূরত্ব তৈরি হতে পারে, যা এ ক্ষেত্রে ঘটেছে। তবে তিনি এই বিচ্ছেদকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে রাজি নন এবং বিশ্বাস করেন যে, ভোটের ময়দানে এর প্রভাব হবে অতি সামান্য।
শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলন যে অভিযোগ তুলেছে, মাওলানা মামুনুল হক সেটিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, শরিয়াহ আইনের অবস্থান নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের করা মন্তব্যগুলো সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নয়। মামুনুল হক দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং ইসলামী মূল্যবোধের যে মূল ভিত্তি থেকে এই জোটের যাত্রা শুরু হয়েছিল, আদর্শিক সেই অবস্থান থেকে কোনো দল বা নেতা এক চুলও সরে যাননি। জোটের প্রতিটি শরিক দল এখনও সেই অঙ্গীকারের প্রতি অবিচল রয়েছে এবং কোনো রাজনৈতিক চাপের মুখে আদর্শ জলাঞ্জলি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
নির্বাচনের আগে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে পুনরায় কোনো সমঝোতা বৈঠক বা আলোচনার সম্ভাবনা আপাতত নেই বলে মামুনুল হক জানিয়ে দিয়েছেন। তবে তিনি রাজনীতির শিষ্টাচার বজায় রেখে বলেন যে, ইসলামী আন্দোলন যদি তাদের ভুল বুঝতে পেরে পুনরায় জোটে ফিরে আসতে চায়, তবে তাঁদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হবে। আর যদি তারা এককভাবেই নির্বাচনে লড়াই করার সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তবে জোটের অবশিষ্ট আসনগুলো শরিক দলগুলোর সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং মাঠ পর্যায়ের জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নতুন করে বণ্টন করা হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে অগ্রাহ্য করে সামনের দিনগুলোতে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই শীর্ষ আলেম নেতা।







