আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান যে, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের ওপর কোনো ধরণের চাপ নেই। শফিকুল আলমের মতে, বিগত সাড়ে ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ যে ধরণের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের রাজত্ব কায়েম করেছিল, তা আজ বিশ্ববাসীর কাছে দিবালোকের মতো পরিষ্কার। এই ধরণের ভয়াবহ কর্মকাণ্ডের পর দলটির পক্ষ থেকে ন্যূনতম অনুশোচনা বা জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা না করায়, তাদের হয়ে কথা বলার মতো নৈতিক ভিত্তি কোনো আন্তর্জাতিক শক্তির নেই।
আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে প্রেস সচিব আরও বলেন যে, এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম অবাধ, সুষ্ঠু এবং সুন্দর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। এই নির্বাচনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্রগুলো অত্যন্ত মুখিয়ে আছে এবং তারা অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে সব ধরণের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদান করছে। একটি বিশেষ দিক উল্লেখ করে তিনি জানান যে, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ সমর্থকরাও প্রথমবারের মতো তাদের পছন্দের প্রার্থীকে প্রকৃতপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিগত দেড় দশকে দলটির সাধারণ সমর্থকরাও নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি, কারণ তাঁদের হয়ে পুলিশ বা রাষ্ট্রীয় যন্ত্রই ব্যালট বাক্স ভরে দিত। এবার সেই শৃঙ্খল ভেঙে সাধারণ ভোটাররা প্রকৃত অর্থে তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
নির্বাচন বানচালের যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে শফিকুল আলম বলেন যে, কোনো অশুভ শক্তির পক্ষেই এই নির্বাচনি জোয়ার থামানো সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন যে, আওয়ামী লীগের বর্তমান সামর্থ্য কেবল জ্বালাও-পোড়াও বা বিচ্ছিন্ন সহিংসতা ছড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ, যার প্রতি সাধারণ জনগণের কোনো সমর্থন বা সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি দলটির কর্মসূচিতেও এখন আর সাধারণ মানুষ অংশ নেয় না। বিদেশে পালিয়ে থাকা দলীয় নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা জনগণের অর্থ ডলার হিসেবে পাচার করে দেশ ছেড়েছেন, তারা খুব ভালো করেই জানেন যে তাদের নেত্রী আর কোনোদিন রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারবেন না। ফলে সেই পাচারকৃত অর্থ তারা এখন ভিন্ন খাতে ব্যয় করছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্থানীয় সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।







