নির্বাচনি সমীকরণে বড় ধরণের নাটকীয়তা তৈরি করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে আসার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই ঘোষণা দেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা কোনো জোটের অংশ না হয়ে বরং সারা দেশে ২৬৮টি আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। মূলত জামায়াতে ইসলামীর সাথে আদর্শিক সংঘাত, আসন নিয়ে অসন্তোষ এবং নেতৃত্বের প্রতি অসম্মানের অভিযোগ তুলেই চরমোনাই পীরের এই দলটি জোটবদ্ধ রাজনীতির পথ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, জামায়াতের আমীর বিভিন্ন এনজিও ও অর্থের বিনিময়ে করা তথাকথিত কিছু জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের আমীরকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন, যা তাদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ছিল। এছাড়া আদর্শিক ক্ষেত্রেও বড় ধরণের ফাটল দেখা দিয়েছে বলে তারা মনে করছে। ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিক শাসন ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের অঙ্গীকার থেকে পিছু হটেছে এবং ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইনের আলোকেই দেশ পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের মতে, জামায়াতের এই অবস্থান ইসলামপন্থী দলগুলোর মূল চেতনার পরিপন্থী এবং সাধারণ মানুষের সাথে এক ধরণের প্রতারণা।
পীর সাহেব চরমোনাই ইতিপূর্বে দেশের সকল ইসলামী দলকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে ‘ওয়ান বক্স পলিসি’র প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভোটের মাঠে ইসলামপন্থীদের ভোট ভাগ হওয়া রোধ করা। তবে ইসলামী আন্দোলনের দাবি, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় যাওয়ার তীব্র নেশায় এই ঐক্যবদ্ধ ফর্মুলা থেকে সরে গিয়ে সুবিধাবাদী রাজনীতির আশ্রয় নিয়েছে। উল্লেখ্য যে, নির্বাচনে অংশ নিতে দলটি সারা দেশে ২৭০ জন প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিল, যার মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে দুজনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় এখন বাকি ২৬৮ জন প্রার্থীকে পূর্ণ শক্তি নিয়ে ভোটের মাঠে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও সেখানে ইসলামী আন্দোলনের কোনো আসন ছিল না, যা মূলত তখনই জোট ভাঙার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিল। এখন এককভাবে লড়ার এই ঘোষণার মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোটের ময়দানে নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি প্রমাণের এক বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করল।







