আসন্ন গণভোট ও ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে যে জুলাই সনদ কার্যকর হলে সংবিধান থেকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ইতিহাস কিংবা ‘বিসমিল্লাহ’ বাদ দেওয়া হবে। তিনি এ ধরনের প্রচারণাকে সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ড. রীয়াজ উপস্থিত আলেম সমাজকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, জুলাই সনদের লক্ষ্য জাতীয় ঐক্য এবং রাষ্ট্রের সংস্কার, কোনো ধর্মীয় বা ঐতিহাসিক মূল্যবোধকে অবমাননা করা নয়।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ ইমামদের সামনে বিগত ১৫ বছরের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ দেশে যে চরম নিপীড়নমূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, আলেম সমাজ তার অন্যতম বড় সাক্ষী ও ভুক্তভোগী। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে যেভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্যই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছিল। তিনি শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর রচিত হয়েছে সেই সব বীর সন্তানদের রক্তে, তাই এই অর্জনকে কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।
গণভোটের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ, কারণ এর আগে তারা কখনও অবাধ গণভোট দেখেনি। এই ভোট কোনো ব্যক্তি বা দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ভিত্তি এবং একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা সমাজের অভিভাবক হিসেবে সাধারণ মানুষকে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের প্রকৃত অর্থ বুঝিয়ে বলেন। ড. রীয়াজের মতে, ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অর্থ হলো ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন চাওয়া, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। যদি এই পরিবর্তন নিশ্চিত না হয়, তবে পুনরায় স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথ প্রশস্ত হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিনসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আলোচকরা একমত পোষণ করেন যে, জুলাই সনদ ১৩ কোটি ভোটারের সামনে একটি জাতীয় দলিল হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমেই আগামীর বাংলাদেশ পরিচালিত হবে। এই সনদের ভিত্তিতে গঠিত পরবর্তী যেকোনো সরকার জনগণের এই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে আইনত বাধ্য থাকবে।







