যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রদানের প্রক্রিয়া স্থগিত করার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছে, যা আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে। ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর অভিবাসন প্রত্যাশীদের ওপর যে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের আভাস দিয়েছিলেন, এই সিদ্ধান্ত তারই একটি বড় অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নির্দেশনার ফলে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের একটি বিশাল অংশের মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন সাময়িকভাবে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানানো হয়েছে যে, যেসব দেশের অভিবাসীরা মার্কিন জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত কল্যাণভাতা বা সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, এমন ৭৫টি দেশকে এই স্থগিতাদেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই দেশগুলোর অভিবাসীরা ‘অগ্রহণযোগ্য হারে’ মার্কিন জনগণের সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। নতুন এই আদেশের মূল লক্ষ্য হলো এটি নিশ্চিত করা যে, নতুন কোনো অভিবাসী যেন যুক্তরাষ্ট্রের জনকল্যাণমূলক তহবিলের ওপর বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়। যতক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভিবাসন প্রত্যাশীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিয়ে মার্কিন সরকার সন্তোষজনক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারছে, ততক্ষণ এই অনির্দিষ্টকালের ভিসা স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত ‘পাবলিক চার্জ’ বা জনস্বার্থ রক্ষা সংক্রান্ত নিয়মটির কঠোর প্রয়োগ কাজ করছে। এই নিয়মের অধীনে মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে তারা আবেদনকারীর অর্থনৈতিক অবস্থা, স্বাস্থ্য, বয়স এবং ভাষাগত দক্ষতা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করেন। যদি কোনো কর্মকর্তার মনে হয় যে আবেদনকারী ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর নিজের খরচ নিজে চালাতে পারবেন না কিংবা দীর্ঘমেয়াদে সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তিনি ওই ব্যক্তির ভিসা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন। মূলত আফগানিস্তান, রাশিয়া, ইরান, ব্রাজিল, কুয়েত ও ইরাকের মতো দেশগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশের নাগরিকদের ওপরও এই নিয়মের খড়গ নেমে এসেছে। তবে আশার কথা হলো, এই স্থগিতাদেশ কেবল ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; পর্যটন, ব্যবসা কিংবা শিক্ষার্থী ভিসার মতো নন-ইমিগ্র্যান্ট ক্যাটাগরিগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছে না।







