জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে এক জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণভোট’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি অত্যন্ত সরাসরি ভাষায় বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করেন। মাহফুজ আলম অভিযোগ করেন যে, দেশে তথাকথিত দালাল চক্র বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছে এবং এমনকি গণমাধ্যমও নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে অভ্যুত্থান-পরবর্তী কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনগুলো দৃশ্যমান হচ্ছে না। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, জুলাই বিপ্লব কেবল অল্প কিছু মানুষের সুযোগ-সুবিধার জন্য ঘটেনি, বরং এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের আমূল পরিবর্তনের একটি স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে হলে অবশ্যই ‘রাঘববোয়ালদের’ বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, অন্যথায় রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্ন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।
নিজের কর্মকাল নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে সাবেক এই উপদেষ্টা একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন। তিনি দাবি করেন যে, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের শেষ চার মাস তাঁকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তাঁর মতে, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে বিগত স্বৈরাচারী ব্যবস্থার সুবিধাভোগীদের বহাল রেখে নতুন কোনো কাঠামো বা সংস্কার টেকসই করা অসম্ভব। তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘পুরাতন বন্দোবস্তের’ কাছে এক ধরনের আত্মসমর্পণের মতো বলে অভিহিত করেন। মাহফুজ আলম মনে করেন, সংস্কারের মূল চাবিকাঠি হলো ক্ষমতার কাঠামো এবং সম্পদের প্রকৃত পুনর্বণ্টন। বিশেষ করে জমির সুষম বণ্টন এবং জাতীয় পুঁজির সঠিক ব্যবহারের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন, যা নিয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সেমিনারে রাজনৈতিক দলগুলোর বর্তমান ভূমিকা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন মাহফুজ আলম। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, যদি জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ঐক্যমত তৈরি হয়ে থাকে, তবে এখন কেন দলগুলো বিপরীতমুখী বক্তব্য দিচ্ছে। তাঁর মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশ ও জাতিকে যেখানে পৌঁছে দিয়েছিল, রাজনৈতিক দলগুলো বর্তমানে তাদের নিজস্ব সংকীর্ণ স্বার্থে জাতিকে সেখান থেকে অনেক পেছনে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বিষয়টিকে ‘ভূতের পায়ে হাঁটা’ বা পেছনের দিকে চলার সাথে তুলনা করেন। মাহফুজ আলমের এই বক্তব্য মূলত অভ্যুত্থানের সহযোগী শক্তিগুলোর মধ্যে বিদ্যমান ফাটল এবং রাষ্ট্র সংস্কারের পথে চলমান প্রতিবন্ধকতাগুলোকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে, যা আগামী দিনের রাজনীতিতে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।







