ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরম শিখরে পৌঁছেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি মূলত দেশটিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী “সন্ত্রাসীদের” উৎসাহিত করছে। আরাগচির মতে, ট্রাম্প যখন হুঁশিয়ারি দেন যে বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ব্যবস্থা নেবে, তখন সেটি ওইসব গোষ্ঠীকে উসকে দেয় যারা বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনী—উভয় পক্ষকেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে পরিস্থিতিকে আরও রক্তাক্ত করতে চায়। ইরানের দাবি, এই সুপরিকল্পিত রক্তপাতের মূল উদ্দেশ্য হলো একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা, যা প্রকারান্তরে ইরানে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের পথ প্রশস্ত করবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে বারবার তাঁর কঠোর অবস্থানের কথা জানান দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তেহরান যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় বা রক্তপাত বন্ধ না করে, তবে হোয়াইট হাউসের কাছে সামরিক পদক্ষেপসহ “অত্যন্ত শক্তিশালী বিকল্প” ব্যবস্থা উন্মুক্ত রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইতিমধ্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি বিরোধী নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। ওয়াশিংটনের এই সক্রিয়তা তেহরানের চোখে সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত এবং একটি সার্বভৌম সরকারকে উৎখাতের অপচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত দুই সপ্তাহের তীব্র বিক্ষোভে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের স্মরণে ইরান সরকার দেশজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। নিহতদের “শহীদ” হিসেবে অভিহিত করে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে, যাঁদের মধ্যে সাধারণ বিক্ষোভকারীর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ১০০ জনেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। তবে বিরোধী দল ও অধিকারকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি এবং এর মধ্যে কয়েকশ সাধারণ বিক্ষোভকারী রয়েছেন। যদিও স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিহতের এই সংখ্যাগুলো যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে চলমান এই সংকট যে ইরানকে এক ভয়াবহ মানবিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
সূত্র- আলজাজিরা







