আকাশচুম্বী স্বর্ণের বাজার: দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ২ লাখ ৩২ হাজার ছাড়াল ভরি

বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণের দাম এক অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে নতুন এক মাইলফলক সৃষ্টি করল। স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণ বা তেজাবি স্বর্ণের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সোমবার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজুস জানিয়েছে যে, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাফে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে অলঙ্কার প্রেমীদের গুনতে হবে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের অস্থিরতার কারণেই দামের এই উর্ধ্বগতি বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কেবল ২২ ক্যারেটই নয়, স্বর্ণের অন্যান্য মান অনুযায়ীও দামের সমান্তরাল বৃদ্ধি ঘটেছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন ২ লাখ ২১ হাজার ৪৯৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে, আর ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের জন্য ব্যয় করতে হবে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯০ টাকা। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী বা সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৮১ টাকা। তবে ক্রেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাজুস নির্ধারিত এই মূল্যের সঙ্গে সরকারকে বাধ্যতামূলকভাবে ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে। পাশাপাশি গহনা তৈরির জন্য ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি বা মেকিং চার্জও যোগ হবে। গহনার নকশা ও কারুকার্যের ওপর ভিত্তি করে এই মজুরির হার আরও বাড়তে পারে, যা সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে বাড়তি চাপের সৃষ্টি করবে।

স্বর্ণের পাল্লা দিয়ে এবার রুপার দামেও বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে বাজুস। সাদা ধাতুর দাম ভরিতে ৪০৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৭১৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি সনাতন পদ্ধতির রুপার দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকায়। মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মূল্যবান ধাতুর চাহিদার পরিবর্তনের কারণে দেশের বাজারে এই ধরনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। সাধারণ মানুষের জন্য এখন সোনার হরিণ কেনা যেন আক্ষরিক অর্থেই এক দূরহ স্বপ্নে পরিণত হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top