বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল আগামী পাঁচ বছরের জন্য নয়, বরং পরবর্তী অর্ধশতাব্দীর জন্য দেশের গতিপথ ও ভাগ্য নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ ময়দানে নির্বাচনি প্রচারণা ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণে ব্যবহৃত ‘ভোটের গাড়ি’ পরিদর্শনকালে তিনি এই তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁর মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই ভোটগ্রহণ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য মাহেন্দ্রক্ষণ, কারণ সেদিন সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গণভোটও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই গণভোটের মাধ্যমেই দেশবাসী নির্ধারণ করবেন তারা রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে স্থায়ী সংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্য চান কি না।
উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন যে, এবারের নির্বাচন অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় গুণগতভাবে আলাদা। পূর্বের নির্বাচনগুলো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবে হলেও এবার একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সরকারের কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা বা পক্ষ নেই; বরং তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো একটি অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করা যেখানে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরাই জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসবেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করা। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন সংস্থার তথ্যানুযায়ী, প্রায় ১৪০০ মানুষের জীবন এবং ৩০ হাজার মানুষের পঙ্গুত্বের বিনিময়ে অর্জিত এই অধিকার প্রয়োগের দিনটি হলো ১২ ফেব্রুয়ারি।
গণভোটের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে উপদেষ্টা জানান, একটি প্যাকেজ আকারে চারটি মৌলিক প্রশ্ন নিয়ে এই গণভোট আয়োজিত হবে। ভোটাররা যদি মনে করেন দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র সুসংহত হওয়া প্রয়োজন, ক্ষমতার একক কেন্দ্রীভবন বন্ধ হওয়া জরুরি এবং গুম-খুনমুক্ত একটি বিচারকামী সমাজ গঠন করা দরকার, তবে তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রদানের মাধ্যমে এই সংস্কারগুলোকে চিরস্থায়ী রূপ দেবেন। এছাড়া নির্বাচনি নিরাপত্তায় সংখ্যালঘু ও আদিবাসী ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফাওজুল কবির খানের এই বক্তব্য এটিই স্পষ্ট করে যে, আসন্ন এই ভোট কেবল সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং একটি নতুন ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার সামাজিক চুক্তির প্রতিফলন হতে যাচ্ছে।







