জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে দায়মুক্তি অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তুত করেছে আইন মন্ত্রণালয়

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়কদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন মন্ত্রণালয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন যে, আন্দোলনের সময় যারা ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন, তাদের কার্যক্রমকে আইনি বৈধতা ও সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে একটি ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই তথ্যটি জনসম্মুখে আনেন। তাঁর মতে, জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধারা দেশকে স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত করতে যে বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তার জন্য তাদের আইনি দায়মুক্তির অধিকার কেবল যৌক্তিক নয় বরং এটি একটি ঐতিহাসিক প্রয়োজন।

এই উদ্যোগের আইনি ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্যতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের আইন প্রণয়ন সম্পূর্ণ বিধিসম্মত এবং এর আন্তর্জাতিক নজির রয়েছে। তিনি জানান, আরব বসন্তসহ সমসাময়িককালের বিভিন্ন সফল বিপ্লবের পর জনধিকৃত সরকারের পতন ঘটলে বিশ্বের অনেক দেশেই বিপ্লবীদের সুরক্ষায় এ ধরনের আইন করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে এ ধরনের দায়মুক্তির আইনি বৈধতা রয়েছে। ঐতিহাসিক নজির হিসেবে তিনি ১৯৭৩ সালের উদাহরণ টেনে বলেন যে, মহান মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তৎকালীন সময়েও একই ধরনের দায়মুক্তি আইন করা হয়েছিল। সেই সব ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক দৃষ্টান্ত অনুসরণ করেই বর্তমান খসড়াটি তৈরি করা হয়েছে যাতে জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি হয়রানির সুযোগ না থাকে।

শীঘ্রই এই অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের আনুষ্ঠানিক বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। আইন উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী বিপ্লবকে নিরাপদ রাখা সরকারের একটি পবিত্র ও নৈতিক দায়িত্ব। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে যারা সাহসের সাথে রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তাদের সুরক্ষা দেওয়া এবং তাদের অবদানকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই আইনটি কার্যকর হলে জুলাই অভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারীদের ওপর থেকে আইনি জটিলতার শঙ্কা দূর হবে এবং তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে এক অনন্য সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে আসবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top