ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মামলাটি তদন্ত করা হয়েছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সপক্ষে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় এই অভিযোগপত্র তৈরি করা হয়েছে। ডিবি কর্মকর্তাদের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের মূলে ছিল গভীর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, যা আসামিদের পরিকল্পিতভাবে এই অপরাধ সংঘটনে প্ররোচিত করেছিল।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটেছিল গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে। পল্টন থানাধীন বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডে হাদিকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালানো হয়, যা তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হতে থাকলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে তিন দিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার পর ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।
মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় গত ২০ ডিসেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা বা হত্যার অভিযোগ যুক্ত করার নির্দেশ দেন। ডিবির তদন্তে উঠে এসেছে যে, আসামিরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হাদিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল এবং এই ঘটনায় সরাসরি জড়িতদের পাশাপাশি নেপথ্যের ইন্ধনদাতাদেরও চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৭ জন আসামির বিরুদ্ধে এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে হাদি হত্যার ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথে এক বড় ধরনের অগ্রগতি সাধিত হলো বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন।







