বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে ঐতিহাসিক বাঁক: পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হচ্ছেন তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের দলীয় নেতৃত্বে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন যে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত করা হবে। রোববার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। মহাসচিবের ভাষ্যমতে, তারেক রহমানকে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দেওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এটি কার্যকর হতে যাচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর দলটিকে সুসংগঠিত রাখতে এবং আগামী নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারেক রহমানের এই নেতৃত্ব গ্রহণকে সময়ের দাবি হিসেবে দেখছে দলটির নীতিনির্ধারকরা।

মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল আগামী নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়েও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, বিএনপি নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় গেলে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে নিয়ে একটি ‘জাতীয় সরকার’ গঠন করবে। তবে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এই সরকারটি কেবল আন্দোলনের শরিকদের সমন্বয়ে হবে, এটি কোনো ‘সর্বদলীয় সরকার’ নয়। দীর্ঘদিন পর মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি এই নির্বাচনকে জাতির জন্য এক অনন্য সন্ধিক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেন। গণমাধ্যমে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে নানা আশঙ্কার কথা উঠে এলেও মির্জা ফখরুল আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নির্বাচন কমিশন সবার সহযোগিতায় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেবে এবং বিএনপি প্রথম থেকেই এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে ছিল।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে ‘মবোক্রেসি’ বা মব-সহিংসতার এক নেতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যা সুস্থ গণতন্ত্র বিকাশে বড় বাধা। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি সব রাজনৈতিক দলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এক গৌরবোজ্জ্বল ও রাজকীয় প্রস্থান করেছেন। তাঁর সেই স্বপ্নের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করাই এখন বিএনপির মূল অঙ্গীকার। সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, আরিফুল হক চৌধুরীসহ সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যা দলটির অভ্যন্তরীণ শক্তিশালী সংহতিরই বহিঃপ্রকাশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top