সৌদি আরবের সীমান্ত সংলগ্ন ইয়েমেনের হাজরামাউত প্রদেশে নতুন করে ভয়াবহ সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এই লড়াইয়ের একদিকে রয়েছে সৌদি সমর্থিত আঞ্চলিক গভর্নরের অনুগত বাহিনী এবং অন্যদিকে রয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল বা এসটিসি। উত্তেজনাকর এই পরিস্থিতিতে এসটিসি অভিযোগ তুলেছে যে, সৌদি আরব সীমান্ত এলাকায় তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে ভয়াবহ বোমা হামলা চালিয়েছে। তবে হাজরামাউতের গভর্নর সালেম আল-খানবাশি এই অভিযোগের ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এসটিসি-র দখলে থাকা সামরিক ঘাঁটিগুলো পুনরুদ্ধার করার এই প্রচেষ্টাটি কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য নয়, বরং অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে দক্ষিণ ইয়েমেনের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি অংশ।
এই সাম্প্রতিক অস্থিরতার নেপথ্যে রয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার স্বার্থের সংঘাত। গত মাসে সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার অভিযোগ তুলেছিল যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত হাজরামাউত এবং আল-মাহরা প্রদেশে আধিপত্য বিস্তারের জন্য এসটিসি বাহিনীকে গোপনে অস্ত্র সরবরাহ ও উস্কানি দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইয়েমেন সরকার আমিরাতকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের সকল বাহিনী প্রত্যাহারের চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দেয়। এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সর্বশেষ সন্ত্রাসবিরোধী সেনাদলটি ইয়েমেন থেকে বিদায় নিয়েছে। আমিরাতি কর্মকর্তাদের মতে, তারা এখন সরাসরি সংঘাতের চেয়ে সংলাপ এবং আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনার পক্ষপাতী।
ঘটনার মোড় ঘোরে মূলত মুকাল্লা বন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার পর। অভিযোগ উঠেছিল যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত দুটি বড় জাহাজে করে সাঁজোয়া যান এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এসটিসি-র হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। এই পদক্ষেপকে সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকার তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে কড়া অবস্থান গ্রহণ করে। যদিও বর্তমানে আমিরাত দাবি করছে যে তারা তাদের সামরিক কার্যক্রম শেষ করেছে, তবুও হাজরামাউত প্রদেশে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী এবং স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এই লড়াই ইয়েমেন যুদ্ধের এক নতুন ও জটিল সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র- আলজাজিরা







