থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে কয়েক সপ্তাহের তীব্র সংঘর্ষ অবসানে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এতে ১০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং পাঁচ লাখেরও বেশি বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
শনিবার থাই প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাথাফন নার্খফানিত ও কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী তিয়া সেইহা স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর। বর্তমান সেনা অবস্থান বজায় রাখা হবে। সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহার ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বন্ধ।”
স্থানীয় সময় দুপুরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। আসিয়ান পর্যবেক্ষক দল তদারকি করবে। থাইল্যান্ড বন্দি ১৮ কম্বোডিয়ান সেনাকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দেবে। উত্তেজনা বাড়ায় এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
পোইপেট সীমান্ত থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক বলেন, “গোলাগুলি থেমেছে। কিন্তু যুদ্ধবিরতির আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তীব্র গুলিবর্ষণ ছিল। এতে শান্তির স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বাস্তুচ্যুতরা নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফিরবেন না।”
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এটিকে শান্তির দিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেছেন। চীন বলেছে, সংলাপই জটিল বিরোধ সমাধানের কার্যকর উপায়। জাপান, ইইউ, মালয়েশিয়া স্বাগত জানিয়েছে।
রোববার চীনের ইউনানে থাই-কম্বোডিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হবে।
শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সীমান্তের পরিস্থিতি এখনো বেশ নাজুক। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সীমান্তে অত্যন্ত তীব্র গোলাগুলি চলেছে, যা স্থানীয়দের মনে এক ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি করেছে। মূলত ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তের কিছু বিতর্কিত এলাকা এবং প্রাচীন মন্দিরগুলোর মালিকানা নিয়ে শতবর্ষ পুরনো বিরোধ থেকেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। এর আগে জুলাই মাসে একবার সাময়িক শান্তি চুক্তি হলেও তা কয়েক দিনের মাথায় ভেঙে গিয়েছিল। তাই এবার আসিয়ান পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা এবং আগামী ৭২ ঘণ্টার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরবে কি না।
সূত্র- আলজাজিরা







