হামলার বিবরণ ও অভিযোগ
কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত রবিবার (৬ অক্টোবর) ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’-এর প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে কনস্যুলেটে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালে বিকাল ৫টা থেকে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কনস্যুলেটের সামনে জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন।
বিক্ষোভকারীরা এক পর্যায়ে অতিথিদের কনস্যুলেটে প্রবেশে বাধা দেয়, তাদের ধাওয়া করে এবং ডিম নিক্ষেপ করে। এ সময় কনস্যুলেট ভবনের একটি কাচের দরজায় আঘাত করলে তাতে বড় ফাটল সৃষ্টি হয়। পরে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ (এনওয়াইপিডি) দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কয়েকজনকে আটক করে।
আইনি পদক্ষেপ ও নিরাপত্তা
কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ ঘটনার ছবি ও ভিডিও প্রমাণ হিসেবে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কূটনৈতিক মিশন বা কনস্যুলেট ভবনের ওপর হামলা একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এর জন্য কঠোর আইন রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রধান অতিথির জীবনহানি ও তাকে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি মধ্যরাত পর্যন্ত কনস্যুলেটের সামনে অবস্থান করেন। তবে পুলিশের কড়া নিরাপত্তার কারণে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রধান অতিথি নির্বিঘ্নে তার গাড়িতে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ ও প্রস্থান করেন।
কনস্যুলেট জেনারেল সবাইকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন অপতথ্য ও প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। তারা নিশ্চিত করেছে, বিক্ষোভকারীরা প্রধান অতিথির ধারেকাছে পৌঁছাতে পারেনি। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বিদেশেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন সামনে এলো।