ভারতের পোশাক শিল্পের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে দেশটিতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই উচ্চ শুল্কের কারণে ওয়ালমার্ট এবং গ্যাপের মতো বড় বড় মার্কিন ব্র্যান্ডগুলো ভারত থেকে তাদের অর্ডার স্থগিত করেছে। এর ফলে, ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদন বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে, যা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
মার্কিন ব্র্যান্ডের আল্টিমেটাম ও ভারতের উদ্বেগ
খবর অনুযায়ী, পার্ল গ্লোবাল নামের একটি ভারতীয় পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ক্রেতা, যেমন গ্যাপ এবং কোলসের মতো ব্র্যান্ডগুলো, তাদের উৎপাদন ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছে। এই উচ্চ শুল্কের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা ভারত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। জবাবে পার্ল গ্লোবাল তাদের ১৭টি কারখানা থেকে উৎপাদন বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম এবং গুয়াতেমালায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে শুল্কের হার অনেক কম। বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য এই শুল্কের হার ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের জন্য ২০ শতাংশ এবং চীনের জন্য ৩০ শতাংশ, যেখানে ভারতের জন্য তা ৫০ শতাংশ।
‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের জন্য বড় ধাক্কা
এই শুল্ক আরোপ নরেন্দ্র মোদির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে সেইসব প্রতিষ্ঠানের জন্য, যারা সম্পূর্ণরূপে দেশীয় কারখানার ওপর নির্ভরশীল। রিচাকো এক্সপোর্টস-এর মতো প্রতিষ্ঠান, যারা তাদের আয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে পায়, তারাও নেপালের কাঠমান্ডুতে উৎপাদন সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। ভারতের বৃহত্তম জুয়েলারি ও ঘড়ি নির্মাতা টাইটানও কিছু উৎপাদন মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তরের কথা ভাবছে। অন্যদিকে, রেমন্ড তাদের ইথিওপিয়ার কারখানায় উৎপাদন বাড়িয়ে মার্কিন ক্রেতাদের সরবরাহ করার পরিকল্পনা করছে, কারণ সেখানে শুল্ক মাত্র ১০ শতাংশ।
বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ
এই পরিস্থিতি এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সরবরাহ চেইন চীন ছাড়িয়ে বৈচিত্র্যময় করার মার্কিন আগ্রহের কারণে ওয়ালমার্টের মতো ক্রেতাদের জন্য ভারত একটি বিকল্প হিসেবে উঠে আসছিল। কিন্তু এখন ভারত থেকে মার্কিন ব্র্যান্ডগুলো সরে আসায় বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো নতুন করে সুযোগ পাচ্ছে। দক্ষিণ ভারতের তিরুপ্পুর, যা নিট পোশাক শিল্পের প্রাণকেন্দ্র, সেখানে এই মুহূর্তে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই পরিবর্তন বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য একটি বড় সুযোগ নিয়ে আসতে পারে, কারণ মার্কিন ক্রেতারা এখন শুল্ক সুবিধা এবং স্থিতিশীলতার কারণে বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকতে পারে।







