দলীয় অবস্থান বা সরকারের অন্ধ তোষামোদ না করে দেশের গণমাধ্যমগুলোকে সম্পূর্ণ স্বাধীন, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “সরকার বা কোনো দলের চাটুকারিতা গণমাধ্যমের কাজ হতে পারে না। আপনাদের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সামনে সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।” সেইসঙ্গে দেশের সামগ্রিক ইতিবাচক সংস্কার ও পরিবর্তনের জন্য তিনি গণমাধ্যমের আন্তরিক সহযোগিতাও কামনা করেছেন।
সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) বিকেলে সচিবালয়ে দেশের সবকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং বার্তা সম্পাদকদের (নিউজ এডিটর) সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ মতবিনিময় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
চাকরির নিরাপত্তা ও টেলিভিশন শিল্পের সংকট নিয়ে আলোচনা
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের টেলিভিশন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষ নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে এটিই তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত বৈঠক। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের টেলিভিশন শিল্পের বর্তমান গভীর অর্থনৈতিক সংকট, সাংবাদিকদের পেশাগত নানা চ্যালেঞ্জ, ছাঁটাই বন্ধ ও চাকরির সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা এবং পূর্ণাঙ্গ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত ও খোলামেলা আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা দেশের বর্তমান সম্প্রচার খাতের নানামুখী সংকট ও ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুরোপুরি সমুন্নত রাখার পাশাপাশি সাংবাদিকদের যুক্তিসঙ্গত দাবি ও অধিকার আদায়ে পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দেন।
গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গণমাধ্যম হলো সমাজের দর্পণ এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সরকারের কোনো ভুলত্রুটি বা নীতিতে গলদ থাকলে গণমাধ্যম যেন তা গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে নির্ভয়ে ধরিয়ে দেয়, সেই আহ্বান জানান তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার সংবাদপত্রের টুঁটি চেপে ধরা বা মুক্ত সাংবাদিকতায় বাধা দেওয়ার কোনো পুরোনো নীতিতে বিশ্বাসী নয়; বরং একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা দেখতে চায়।







