ইসরায়েল-লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত বলে ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, দুই দেশ ১০ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ইস্টার্ন টাইম বিকাল ৫টা থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনার পর এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ইরানপন্থী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে চলা বিধ্বংসী যুদ্ধের পর এই যুদ্ধবিরতিকে শান্তির পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কূটনৈতিক তৎপরতা ও পর্দার অন্তরালে:

  • সরাসরি আলোচনা: গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি কূটনৈতিক বৈঠকে বসেন। এই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত আসে।

  • ট্রাম্পের নির্দেশ: স্থায়ী শান্তি বজায় রাখতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের ইসরায়েল ও লেবাননের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “চলুন, শান্তির এই প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করি।”

  • লেবাননের কৃতজ্ঞতা: লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এক বিবৃতিতে এই যুদ্ধবিরতি অর্জনে সহায়তার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

আলোচনায় জটিলতা:

যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হলেও সরাসরি আলোচনার ক্ষেত্রে কিছুটা তিক্ততা লক্ষ্য করা গেছে। লেবাননের একটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে আউন সাফ জানিয়ে দেন যে, লেবাননে বিমান হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চলাকালীন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি সংলাপ অপ্রাসঙ্গিক।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ১০ দিন পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন দেখার বিষয়।

সূত্র- এপি ও বিবিসি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top