ব্যয় সংকোচনে সরকারের ৯ দফা কঠোর নির্দেশনা; গাড়ি কেনা ও বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। জ্বালানি ব্যবহার, গাড়ি কেনা এবং সভা-সেমিনারসহ মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্যয় কমিয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

গত ২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এই পরিপত্র জারি করা হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর থাকবে।

সাশ্রয়ী ব্যবস্থার ৯টি প্রধান ক্ষেত্র:

১. জ্বালানি সাশ্রয়: সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।

২. গাড়ি ও বিদেশ ভ্রমণ: কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের সুদমুক্ত ঋণ এবং সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে।

৩. অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ: প্রশিক্ষণ ব্যয় ছাড়া অন্যান্য অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ খরচ ৫০ শতাংশ কমাতে হবে।

৪. আপ্যায়ন ও সেমিনার: সভা/সেমিনারে আপ্যায়ন খরচ ৫০ শতাংশ এবং কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ কমাতে হবে।

৫. ভ্রমণ ব্যয়: সরকারি কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৬. সরঞ্জাম ক্রয়: সরকারি খাতে নতুন গাড়ি, জলযান, আকাশযান এবং কম্পিউটার ক্রয় ১০০ শতাংশ বন্ধ (পুরোপুরি স্থগিত) থাকবে।

৭. ইউটিলিটি খরচ: কার্যালয়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।

৮. ভবন শোভাবর্ধন: আবাসিক ভবনে ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবনে ৫০ শতাংশ শোভাবর্ধন ব্যয় কমাতে হবে।

৯. ভূমি অধিগ্রহণ: ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সব ধরনের ব্যয় আপাতত শতভাগ স্থগিত রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রভাব ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ কমাতেই এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top