ফের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের আভাস; হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চীনের ‘রেড ওয়ার্নিং’

ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের সংলাপ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারলেও, দুই পক্ষই পুনরায় বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে চীনের কঠোর অবস্থান এবং ইরানকে বেইজিংয়ের অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহের গোয়েন্দা তথ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ম্যারাথন আলোচনা শেষে নতুন দফার বৈঠকের ইঙ্গিত দিয়েছেন জিও নিউজের সিনিয়র বিশ্লেষক হামিদ মির। রোববার রাতে এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, প্রথম দফার বৈঠকে কিছু বিষয়ে ঐক্যমত্য হলেও লেবানন পরিস্থিতি এবং হিজবুল্লাহ-হামাস ইস্যু নিয়ে বড় ধরনের মতভেদ রয়ে গেছে। আলোচনার শেষ পর্যায়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানি প্রতিনিধি মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে জানিয়েছেন যে, তিনি আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে পরামর্শ করবেন।

হরমুজ প্রণালিতে চীনের কড়া অবস্থান:

আলোচনার সমান্তরালে হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। মার্কিন নৌ-অবরোধের হুমকির মুখে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অ্যাডমিরাল ডং জুন এক বিশেষ বার্তায় ওয়াশিংটনকে সরাসরি “রেড হট ওয়ার্নিং” দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, চীন তার বাণিজ্যিক জীবনরেখা রক্ষা করতে এবং ইরানের সাথে জ্বালানি চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাইরের কোনো শক্তিকে এই জলপথে হস্তক্ষেপ না করার জন্য তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

অস্ত্র সরবরাহ ও মার্কিন বিমান ভূপাতিত হওয়ার বিতর্ক:

তপ্ত এই পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করেছে যে, চীন ইরানকে নতুন করে অত্যাধুনিক ‘এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ বা বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা সরবরাহ করছে। বিশেষ করে কাঁধে রেখে নিক্ষেপণযোগ্য ‘ম্যানপ্যাডস’ ক্ষেপণাস্ত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিচু দিয়ে ওড়া যুদ্ধবিমানের জন্য মারাত্মক হুমকি।

সম্প্রতি ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা এই উত্তেজনাকে চরমে নিয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, বিমানটি একটি হিট-সিকিং ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে। যদিও চীন এই অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন তেহরান-বেইজিং সামরিক জোট ওয়াশিংটনের প্রভাব খর্ব করতে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

ইসলামাবাদের পরবর্তী আলোচনার টেবিল না কি হরমুজ প্রণালির রণক্ষেত্র—কোনটি জয়ী হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top