দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-তে আবারও অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খানকে দীর্ঘ মেয়াদী ছুটিতে পাঠানো এবং পরিচালনা পর্ষদে গুরুত্বপূর্ণ রদবদলকে কেন্দ্র করে ব্যাংকিং খাতে নতুন করে শঙ্কা ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে ৩১ মে পর্যন্ত প্রায় ৪৯ দিনের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে ব্যাংকটির এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক খানকে। যদিও তিনি মাত্র ১৫ দিনের ছুটি চেয়েছিলেন, কিন্তু পর্ষদ তা বাড়িয়ে প্রায় দেড় মাস করেছে। ব্যাংকিং সংশ্লিষ্টরা এটিকে ‘বাধ্যতামূলক ছুটি’ এবং শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।
অস্থিরতার মূল কারণ ও পটভূমি:
-
পর্ষদে রদবদল: সম্প্রতি পর্ষদ থেকে জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত একজন পরিচালককে সরিয়ে এস আলম গ্রুপের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পরিবর্তনকে ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নতুন ক্ষমতার সমীকরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
-
অভ্যন্তরীণ বিভক্তি: ব্যাংকের ভেতরে ২০১৭ সালের আগে এবং পরে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন ও ভীতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তথ্য ও নথি ফাঁসের ঘটনা প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
-
রাজনৈতিক প্রভাব ও নতুন আইন: বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রভাবে পর্ষদে আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। পাশাপাশি সদ্য পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন, ২০২৬’-এর সুযোগে পুরোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর পুনর্বাসনের শঙ্কা প্রকাশ করেছে টিআইবি।
বিরোধীদলীয় নেতার কড়া হুঁশিয়ারি:
সোমবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এক সেমিনারে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ইসলামী ব্যাংকে আবার নতুন করে ‘অভ্যুত্থান’ শুরু হয়েছে। দেশের রেমিট্যান্সের ৩২ শতাংশ আহরণকারী এই ব্যাংকের অস্তিত্ব বিপন্ন হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বঙ্গোপসাগরে চলে যাবে।” তিনি ব্যাংক খাতকে দলীয়করণ না করার জন্য সরকারকে সাবধান করে দেন।
গ্রাহকদের উদ্বেগ:
মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের আশঙ্কায় গ্রাহকদের একটি অংশ প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করেছে। আস্থার সংকট তৈরি হলে বড় ধরনের তারল্য সংকটের ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।







