জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করার দাবিতে রাজপথে ধারাবাহিক আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১-দলীয় ঐক্যজোট। সংসদে মুলতবি প্রস্তাব ও ওয়াকআউটের পর এবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ, সমাবেশ এবং গণসংযোগের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে এই জোট।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বিল আকারে না আনা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের ‘গড়িমসি’র প্রতিবাদে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। ১১-দলীয় জোটের মতে, সরকার সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাইছে।
কর্মসূচির মূল প্রেক্ষাপট ও ঘোষণা:
-
৭ দিনের কর্মসূচি: ৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ৭ এপ্রিল থেকে সারা দেশে সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লিফলেট বিতরণ, সেমিনার, বিক্ষোভ মিছিল ও গণসংযোগ।
-
জোটের অনড় অবস্থান: জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “আমরা রাজপথ থেকে পিছপা হব না। সংসদের ভেতরে ও বাইরে গঠনমূলক বিরোধিতা চলবে। আগামী দিনে অন্যান্য গণতান্ত্রিক শক্তিও আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে।”
-
এনসিপি-র অবস্থান: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব জানান, পরিস্থিতির আলোকে আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হবে।
সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিক্রিয়া:
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান জানিয়েছেন, গঠনমূলক আন্দোলনে বাধা দেওয়া হবে না, তবে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম স্পষ্ট করেছেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ নিরাপত্তা দেবে, কিন্তু অস্থিতিশীলতা তৈরি করলে কঠোর দমন করা হবে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক সতর্ক করে বলেছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে আবার আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হলে অন্য কোনো অপশক্তি সেই সুযোগ নিতে পারে। তিনি সংঘাত এড়াতে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।






