বিশ্বরাজনীতির এক অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পাকিস্তান। ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি রক্ষা এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার এক “অসম্ভব” মিশন নিয়ে কাজ করছে দেশটি। শনিবারের এই ঐতিহাসিক সংলাপ পাকিস্তানের জন্য যেমন বড় সুযোগ, তেমনি এক বিশাল কূটনৈতিক ঝুঁকি।
ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নিবিড় তৎপরতায় পাকিস্তান এখন বিশ্বমঞ্চে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য হলো পশ্চিম সীমান্ত সংলগ্ন ইরান ও আফগানিস্তানের অস্থিরতা বন্ধ করে একটি টেকসই শান্তি কাঠামো তৈরি করা।
সাফল্য ও ঝুঁকির ভারসাম্য:
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মুহাম্মদ ফয়সালের মতে, পাকিস্তান এই আলোচনায় তার বিশাল রাজনৈতিক পুঁজি বিনিয়োগ করেছে। সফল হলে এটি হবে দেশটির অভাবনীয় কূটনৈতিক প্রত্যাবর্তন, কিন্তু ব্যর্থ হলে “সাধ্যের অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি” দেওয়ার তকমা তাদের গ্লানি বাড়িয়ে দেবে। জাহিদ হোসেনের মতে, ইসরায়েলের শর্তসাপেক্ষ অবস্থান এবং লেবাননে চলমান হামলা এই শান্তি প্রক্রিয়াকে যেকোনো মুহূর্তে ভেস্তে দিতে পারে।
নেপথ্যে চীনের নিরব কূটনীতি:
পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের দাবি, মঙ্গলবার রাতে যখন প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন বেইজিংয়ের হস্তক্ষেপেই ইরান আলোচনায় রাজি হয়। স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন যে ইরানকে টেবিলে আনতে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সাবেক সিনেটর মুশাহিদ হোসেন সায়েদ মনে করেন, ট্রাম্প-নেতানিয়াহু জুটির প্রতি ইরানের আস্থার অভাব থাকায় বেইজিংই হতে পারে এই চুক্তির প্রধান ‘গ্যারান্টর’।
আলোচনার মূল চ্যালেঞ্জসমূহ:
-
হরমুজ প্রণালি: এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ উন্মুক্ত করা এবং সেখানে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
-
লেবানন ইস্যু: পাকিস্তান ও ইরান লেবাননকে যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলেও ইসরায়েল সেখানে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে।
-
নিরাপত্তা ও বিশেষজ্ঞ দল: নেভিগেশন ও পারমাণবিক বিষয়গুলো সামলাতে পাকিস্তান ইতিমধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে।
ইসলামাবাদের এই আলোচনার ফলাফলই বলে দেবে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকট কোন দিকে মোড় নিচ্ছে।







