সংসদে সুস্থ ধারার অভাব এবং সরকারি দলের ‘ওয়াদা ভঙ্গের’ প্রতিবাদে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকার কেবল ক্ষমতা কুক্ষিগত করার বিলগুলোই সংসদে আনছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো এড়িয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনেও সংসদের বিশেষ অধিবেশন চলাকালীন এই নাটকীয় ঘটনা ঘটে। শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, স্পিকারের রুলিং থাকা সত্ত্বেও দুদক, পুলিশ সংস্কার, গুম কমিশন ও গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে পেশ করা হচ্ছে না।
বিরোধী দলীয় নেতার প্রধান অভিযোগসমূহ:
-
তথ্য গোপন ও ছলচাতুরী: বিশেষ কমিটিতে একমত হওয়া সত্ত্বেও বিরোধী দলকে না জানিয়ে শেষ মুহূর্তে বিলের প্রতিবেদনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। শফিকুর রহমানের দাবি, “এক বস্তা কাগজ আমাদের সামনে দেওয়া হলো যা দেখার সুযোগও মেলেনি। আমাদের শিশু মনে করা হচ্ছে।”
-
সংসদে বিভ্রাট ও ‘বেসরকারি’ সদস্য নাটক: জুলাই জাদুঘর বিলে সরকারি দলের সদস্যের মাধ্যমে সংশোধনী এনে সেটিকে ‘বেসরকারি’ হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু মন্ত্রী সেটি গ্রহণ করায় তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলীয় নেতা।
-
নির্বাচনী ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও ট্রফি বিতর্ক: ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন, “নির্বাচনের ট্রফি যদি লন্ডনেই তুলে দেওয়া হয়ে থাকে, তবে নির্বাচনের ভাগ্য পর্দার আড়ালেই ঠিক করা হয়েছে। জাতিকে ব্ল্যাকমেইলিং করা হয়েছে।”
-
গণভোট ও সংস্কার: গণভোট অধ্যাদেশ ল্যাপস বা অকার্যকর করার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকারের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের বক্তব্য:
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ব্রিফিংয়ে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো আলোচনার সুযোগ না দিয়ে সরকার ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছে। এটি একটি “ওয়াদা ভঙ্গের সংসদে” পরিণত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিরোধী দল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সংসদে সুবিচার না মেলায় এখন জনগণের কাছেই এই দাবিগুলো নিয়ে যাওয়া হবে।







