ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে পৌঁছাতে শুরু করেছে, অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় আলোচনায় অংশ নেওয়া নিয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে ইরান।
আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া এই ঐতিহাসিক বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। তবে এই আলোচনায় ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
পাকিস্তানের আকাশে নজিরবিহীন মার্কিন তৎপরতা:
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইসলামাবাদের নূর খান বিমান ঘাঁটিতে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। অন্তত চারটি সি-১৭ কার্গো বিমান ভাইস প্রেসিডেন্টের বুলেটপ্রুফ গাড়ি ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিয়ে অবতরণ করেছে। এছাড়া একটি ভিআইপি সি-৪০ ক্লিপার এবং একটি অত্যাধুনিক গোয়েন্দা বিমানকে (ISR) দীর্ঘক্ষণ ইসলামাবাদ-রাওয়ালপিন্ডি করিডোরে চক্কর দিতে দেখা গেছে, যা কূটনৈতিক এলাকার রিয়েল-টাইম নজরদারি নিশ্চিত করছে।
ইরানের শর্ত ও অনড় অবস্থান:
তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি অভিযান বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো আলোচনায় বসবে না। ইরানের বার্তা সংস্থা ‘ফার্স নিউজ’ মার্কিন গণমাধ্যমের খবর নাকচ করে দিয়ে দাবি করেছে, ইরানের কোনো প্রতিনিধি দল এখনো ইসলামাবাদে পৌঁছায়নি এবং আপাতত আলোচনায় যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাও তাদের নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “আলোচনা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে কি না তার ওপর।”
লেবাননে লাশের মিছিল ও ট্রাম্পের হুমকি:
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, “চুক্তি না মানলে গুলি শুরু হবে।” কিন্তু যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত বুধবার থেকে চলা হামলায় নতুন করে ৩০৩ জন নিহত হয়েছেন, যার ফলে গত ২ মার্চ থেকে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৮৮৮ জনে।
এমন এক পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হতে যাওয়া এই আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন সুতোয় ঝুলছে।







