বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সাম্প্রতিক দুই আসনের নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে—“যেই লাউ সেই কদু।” তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে বিভ্রান্ত করার যে রাজনীতি চলছিল, তা এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং একই ধরনের শাসনব্যবস্থা ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবন-এ আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে যেমন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, এবারের পরিস্থিতিও তেমনই। স্থান বদলালেও পদ্ধতির কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, শেরপুরে তার দলের এক উপজেলা সেক্রেটারি হত্যার ঘটনার পর আবারও একই ধরনের আরেকটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা জানান এবং সংসদের মাধ্যমে দ্রুত বিচার দাবি করেন।
সংসদে ওয়াকআউটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কিছু বিল জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় হওয়ায় সেগুলোতে বিরোধী দল সমর্থন দিয়েছে। তবে কয়েকটি বিলের মাধ্যমে জনগণের অধিকার খর্ব, বিচার বিভাগের ক্ষমতা সীমিত করা এবং নির্বাচনি ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
বক্তব্য দেওয়ার সময়সীমা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার দাবি, বিরোধী দলকে সীমিত সময় দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা দীর্ঘ সময় বক্তব্য দিয়েছেন, যা সংসদীয় ভারসাম্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থাকলে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কাঠামো বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন বিল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের স্বার্থবিরোধী আইন পাসের প্রতিবাদেই বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে। তবে তারা সংসদ বর্জন করেনি এবং ভবিষ্যতেও জনগণের পক্ষে কথা বলার জন্য সংসদে উপস্থিত থাকবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ দলের সিনিয়র সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।







