সেনা সমর্থিত বিতর্কিত ‘ওয়ান-ইলেভেন’ বা ১/১১ সরকারের অন্যতম তিন প্রভাবশালী কুশীলব এখন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হেফাজতে। আদালতের অনুমতিতে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নিয়ে তাদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ২০০৭-০৮ সালে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন, অর্থ আদায় এবং গুমের মতো গুরুতর অভিযোগের তদন্তে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) আফজাল নাছেরকে বিভিন্ন ‘প্লেস অব অকারেন্স’ বা তৎকালীন গোপন নির্যাতন কেন্দ্রগুলোতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সেই সময় যারা নির্যাতিত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, তাদের ওপর চালানো অমানবিক আচরণের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছে গোয়েন্দারা।
তদন্তে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
-
মাস্টারমাইন্ডের ভূমিকা: তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, তৎকালীন ‘গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র প্রধান হিসেবে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীই ছিলেন পুরো অভিযানের মূল পরিকল্পনাকারী বা মাস্টারমাইন্ড। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিলেন।
-
নির্যাতন ও অর্থ আদায়: জরুরি অবস্থার সুযোগ নিয়ে সামরিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ অমান্য করার উপায় ছিল না বলে জানিয়েছেন দুদকের সাবেক কর্মকর্তারা। সে সময় অনেককে রিমান্ডের নামে টর্চার সেলে নিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
-
কাদিরভৎসি স্টাইল বনাম মাইনাস টু: জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দফায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।
আইনি ব্যবস্থা ও নতুন মামলা:
ডিজিএফআই-এর সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ দুর্নীতির বিশেষ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানোর নামে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছে দুদক, যার শুনানি আগামী ৯ এপ্রিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, তথাকথিত ‘সেইফ হাউস’গুলোতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অসংখ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীরা এখন সাহস করে অভিযোগ নিয়ে আসছেন। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে এই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক নতুন মামলা দায়ের হতে পারে।







