“সংবিধান কি একাত্তরের পরাজয়ের দলিল?”— সংসদে প্রশ্ন আন্দালিব রহমান পার্থের

সংবিধান সংস্কার ও বাতিল প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিধি-৬২ অনুযায়ী জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বর্তমান প্রক্রিয়ার কঠোর সমালোচনা করেন।

ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ সংবিধান ছুড়ে ফেলার প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, “সংবিধান ছুড়ে ফেলব কেন? এই সংবিধানে এত গাত্রদাহ কেন? সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয় এটা একাত্তরের পরাজয়ের দলিল?” তিনি সংবিধানকে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রয়োজনে এটি সংশোধন বা পরিবর্তন করা যেতে পারে, কিন্তু পুরোপুরি বাতিল করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

প্রক্রিয়া ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে সমালোচনা:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েও পার্থ এর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “জুলাই নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই, আমাদের সমস্যা হচ্ছে প্রক্রিয়া নিয়ে। আপনারা যদি সংবিধান ছিঁড়ে ফেলে নতুন করে বানাতে চাইতেন, তবে সেই সময় রেভল্যুশনারি (বিপ্লবী) বা ট্রানজিশনাল সরকার করলেন না কেন? একটি সাধারণ সরকারে থেকে, পুরোনো সংবিধানে শপথ নিয়ে আপনারা সংবিধান বাতিল করতে চাচ্ছেন—এটা আসলে হয় না।”

জামায়াত ও দ্বিমুখী রাজনীতির সমালোচনা:

বক্তব্যের এক পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে পার্থ বলেন, “সারাজীবন ভারতের বিরুদ্ধে রাজনীতি করে এখন তাদের সঙ্গে মিটিং করছেন। আবার ইসলামের নামে রাজনীতি করে ভোটের জন্য বলছেন শরিয়া আইন চান না। সমস্যাটা কোথায়? পজিটিভ পলিটিক্স নিয়ে আসুন।”

ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা:

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে কেউ ভিন্নমত পোষণ করলেই তাকে জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের আচরণের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “তখন তেলের দাম নিয়ে কথা বললেও বলা হতো আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই না। এখন আমি সেই একই আচরণ দেখতে পাচ্ছি।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top