যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে ইরানকে রক্ষায় সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ার চেচেন সামরিক বাহিনী। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, মার্কিন বাহিনী যদি ইরানে স্থল অভিযান শুরু করে, তবে রমজান কাদিরভের অনুগত চেচেন ইউনিটগুলো তেহরানের পক্ষে লড়তে সেখানে মোতায়েন হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত আজ ৩২তম দিনে গড়িয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিব কয়েক সপ্তাহ ধরে বিমান হামলা চালিয়েও কোনো চূড়ান্ত ফলাফল না পাওয়ায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন বাহিনী এখন বড় ধরনের স্থল আগ্রাসনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটেই চেচেন নেতা রমজান কাদিরভপন্থী বাহিনীগুলো এই লড়াইকে ‘ধর্মীয় যুদ্ধ’ বা ‘জিহাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
সংঘাতের বর্তমান চিত্র:
-
প্রতিশোধমূলক হামলা: ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, তাদের সশস্ত্র বাহিনী এ পর্যন্ত অন্তত ৮৬ দফা প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইলি সামরিক অবকাঠামো এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
-
হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ড: যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, যা তেহরানকে আরও কঠোর অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে।
-
ইউক্রেনের সংশ্লিষ্টতা: ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘে অভিযোগ করেছে যে, ইউক্রেন এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সহায়তা করতে ‘শত শত বিশেষজ্ঞ’ মোতায়েন করেছে। ইরানি দূত আমির সাইদ ইরাভানি একে একটি বড় ধরনের উসকানি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ:
বিশ্লেষকদের মতে, চেচেন বাহিনীর এই ঘোষণা এবং ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের কথিত সংশ্লিষ্টতা চলমান সংঘাতকে কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ রাখছে না, বরং একে সরাসরি রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যকার বৃহত্তর দ্বন্দ্বে রূপ দিচ্ছে। চেচেন বাহিনী বা ‘কাদিরোভৎসি’ মূলত রুশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে, তাই তাদের এই অংশগ্রহণ সরাসরি মস্কোর প্রচ্ছন্ন সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়।
বর্তমানে পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে একটি বহুমুখী এবং আন্তর্জাতিক যুদ্ধের আশঙ্কা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তেহরানের পাল্টা প্রতিরোধের ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব রাজনীতির ভবিষ্যৎ।







