২০১২ সালে গুম হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান এবং বিগত ১৭ বছরের সকল গুম-খুনের বিচার দাবি করেছেন তার স্ত্রী ও সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা। সোমবার (৩০ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই আবেগঘন দাবি উত্থাপন করেন।
সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছি প্রায় দেড় বছর হতে চলল, কিন্তু এখনো জানি না আমাদের স্বজনরা কোথায়? ইলিয়াস আলী ও সুমন পারভেজসহ যারা গুম হয়েছেন, তাদের পরিবার জানতে চায় তাদের পরিণতি কী?”
সংসদে উত্থাপিত প্রধান দাবি সমূহ:
-
পরিণতি ও অবস্থান নিরূপণ: ইলিয়াস আলীসহ সকল গুম হওয়া ব্যক্তির বর্তমান অবস্থান বা তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে।
-
বিচারের দাবি: গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
-
আর্থিক ও আইনি জটিলতা নিরসন: গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ দিন ধরে নানা আর্থিক ও আইনি জটিলতায় ভুগছেন। এই সমস্যা সমাধানে বিশেষ পুনর্বাসন ও সহায়তার জোর দাবি জানান তিনি।
-
‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি: বিগত ১৭ বছরে যারা গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের সকলকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করেন লুনা।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বক্তব্য:
রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে লুনা বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণে বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার সঠিক চিত্র ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে গুম ও খুনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সাহসী অবস্থান এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকে গুম-খুন চিরতরে নির্মূল হবে এবং একটি বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ দেশ গঠিত হবে।







