মধ্যপ্রাচ্যে ১৭ মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ইরানের, যুদ্ধ আরো কিছুদিন দীর্ঘায়িত করতে চান ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক দৃশ্যপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক চরম উত্তেজনাকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। একদিকে ইরান দাবি করেছে যে তারা এ অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে যে ইরানের বর্তমান সরকারকে স্থায়ীভাবে দুর্বল করতে তারা আরও কিছু সময় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি জানান, পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপিত ১৭টি সামরিক ঘাঁটির সবকটিই ইরানের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শেখারচি বলেন, মার্কিন বাহিনী তাদের নিজস্ব ঘাঁটি ও সেনাদের সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

ইরানি জেনারেল ২০২৫ সালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংঘটিত ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে জানান, ওই যুদ্ধের পর ইরান তাদের সামরিক কৌশলে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে এবং এখন আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইরান আগ বাড়িয়ে কোনো দেশকে আক্রমণ করবে না, কিন্তু আক্রান্ত হলে পাল্টা জবাব দিতে দ্বিধা করবে না। এছাড়া হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন কিছু শর্তারোপের কথাও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা কৌশল:

অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যগুলোর অধিকাংশই অর্জন করেছেন। তবে এখনই যুদ্ধ থামানোর পক্ষপাতী নন ট্রাম্প। ভ্যান্সের ভাষ্যমতে, “প্রেসিডেন্ট আরও কিছু সময় এই অভিযান চালিয়ে যেতে চান যাতে ইরানের বর্তমান সরকারকে দীর্ঘ সময়ের জন্য এবং ব্যাপকভাবে দুর্বল করা যায়। উদ্দেশ্য হলো এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করা যাতে ভবিষ্যতে ইরানে আর হামলা চালানোর প্রয়োজন না হয়।”

মার্কিন প্রশাসন স্বীকার করেছে যে, এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে জেডি ভ্যান্স আশ্বস্ত করেছেন যে, সামরিক লক্ষ্য অর্জিত হলে দ্রুতই তেলের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল কৌশল হলো ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া।

সব মিলিয়ে, ইরানের সরাসরি আঘাতের দাবি এবং হোয়াইট হাউসের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরণের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top