‘ডিপ স্টেট’ ও ২০২৯ সালের ক্ষমতার প্রস্তাব: আসিফ মাহমুদের রহস্যময় নতুন ব্যাখ্যা

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ‘ডিপ স্টেট’ সংক্রান্ত বিস্ফোরক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার সেই প্রস্তাব এবং এর পেছনের রহস্য নিয়ে আসিফ মাহমুদ আজ শুক্রবার বিকেলে সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’-র কাছে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করেছেন।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনের প্রথম তিন থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে ‘ডিপ স্টেট’-এর পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবগুলো এসেছিল। তবে সেই প্রভাবশালী গোষ্ঠীর পরিচয় সুনির্দিষ্ট করতে অপরাগতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ডিপ স্টেটে বৈদেশিকসহ অনেকগুলো পক্ষ ছিল। তাই সুনির্দিষ্ট করে কারও নাম আমি এখন উল্লেখ করতে চাই না।”

প্রস্তাবের নেপথ্যে থাকা শর্তসমূহ:

আসিফ মাহমুদের দাবি অনুযায়ী, এই প্রভাবশালী গোষ্ঠীটি একটি পূর্ণাঙ্গ ‘রোডম্যাপ’ নিয়ে এসেছিল। তাদের প্রধান শর্ত ছিল নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় তাদের বিশেষ সুবিধা (Facilitate) প্রদান করা। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিগত শাসনের বিভিন্ন কার্যক্রমকে বৈধতা দেওয়ার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতও সেই প্রস্তাবে ছিল। রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে কোণঠাসা করার কৌশল হিসেবে আদালতের মাধ্যমে দলটির নেতাদের সাজা দীর্ঘায়িত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, যাতে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন।

সমঝোতায় না যাওয়ার কারণ:

সাবেক এই উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কোনো অসাংবিধানিক সমঝোতায় যেতে রাজি ছিল না। গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তারা সেই প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা নিজেরা আগবাড়িয়ে পদত্যাগ করেছি যাতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।” তার মতে, ডিপ স্টেটের সেই প্রস্তাব মেনে নিলে হয়তো ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা যেত, কিন্তু তা জনগণের ম্যান্ডেট পেত না।

রহস্যময় ‘ডিপ স্টেট’:

রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘ডিপ স্টেট’ বলতে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে থাকা এমন এক অদৃশ্য শক্তিকে বোঝানো হয়, যারা পর্দার আড়ালে থেকে নীতি নির্ধারণ ও ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। মজার বিষয় হলো, আসিফ মাহমুদের আগে গত ১০ মার্চ এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও ‘শরিফ ওসমান হাদি’ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে এই ‘ডিপ স্টেট’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের অন্য কোনো সাবেক উপদেষ্টা এখন পর্যন্ত এই ধরনের কোনো প্রস্তাবের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top