বহুমুখী যুদ্ধের চাপে সেনা সংকটে ভেঙে পড়ার মুখে আইডিএফ; লেবানন সীমান্তে ১০০ ‘মেরকাভা’ ট্যাংক ধ্বংস

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ সামরিক সংকট এবং লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর বিধ্বংসী আক্রমণের মুখে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এখন অস্তিত্ব রক্ষার চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। একদিকে সৈন্য স্বল্পতা ও ক্লান্তিতে সেনাবাহিনীর ভেঙে পড়ার উপক্রম, অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননের রণক্ষেত্রে ইসরায়েলের গর্ব হিসেবে পরিচিত ‘মেরকাভা’ ট্যাংকের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ রূপ দিয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক নেতৃত্ব ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে সতর্ক করেছে যে, বহুমুখী যুদ্ধের প্রবল চাপে আইডিএফ এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এক টেলিভিশন ভাষণে জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট কৌশল ও পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাব এবং সৈন্য সংকটের কারণে সেনাবাহিনী আর সামাল দিতে পারছে না। সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামিরও নিরাপত্তা ক্যাবিনেটকে একই সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, সংরক্ষিত সেনারা পঞ্চম ও ষষ্ঠ দফা রোটেশনে কাজ করতে করতে চরম ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত।

‘মেরকাভা ম্যাসাকার’ বা ট্যাংক হত্যাকাণ্ড:

সীমান্তের ওপারে লেবাননে হিজবুল্লাহর সাথে চলমান সংঘাত ইসরায়েলের জন্য যমদূত হয়ে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের দেবেল ও আলকানতারা অঞ্চলে হিজবুল্লাহর ড্রোন ও গাইডেড অ্যান্টি-ট্যাংক মিসাইলের আঘাতে গত কয়েক দিনে প্রায় ১০০টি আধুনিক মেরকাভা ট্যাংক ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা একে ‘মেরকাভা ম্যাসাকার’ হিসেবে অভিহিত করছেন। হিজবুল্লাহর দাবি অনুযায়ী, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানেই অন্তত ২১টি মেরকাভা ট্যাংক ধ্বংস করা হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রতিটি মেরকাভা ট্যাংক তৈরিতে প্রায় ৬০ লাখ ডলার ব্যয় হয়, যা হিজবুল্লাহর মাত্র কয়েক হাজার ডলারের মিসাইলে ধুলোয় মিশে যাচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ সৈন্য সংকট ও হারেদি বিতর্ক:

যুদ্ধের এই ভয়াবহ চাহিদার বিপরীতে ইসরায়েলে তীব্র সৈন্য সংকট দেখা দিয়েছে। সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি দেফ্রিন জানিয়েছেন, লেবানন, গাজা ও সিরিয়া সীমান্তে তাদের জরুরি ভিত্তিতে আরও সৈনিক প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে ইয়ার লাপিদ দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে আল্ট্রা-অর্থোডক্স ‘হারেদি’ সম্প্রদায়কে বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে নেওয়ার দাবি তুলেছেন। তিনি সরকারকে ‘কাপুরুষতা’ বন্ধ করে ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের জন্য সামরিক ছাড় বাতিল করার আহ্বান জানান।

তীব্র প্রাণহানি ও সম্মুখ যুদ্ধ:

ট্যাংক ধ্বংসের পাশাপাশি সম্মুখ সমরেও ইসরায়েলি বাহিনী বড় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সম্প্রতি এলিট গোলানি ব্রিগেডের স্টাফ সার্জেন্ট ওরি গ্রিনবার্গসহ বেশ কয়েকজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহ একদিনে রেকর্ড ৯৫টি পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে উত্তর ইসরায়েলের নাারিয়া শহরেও আঘাত হেনেছে। পর্যবেক্ষকরা এই পরিস্থিতিকে ২০০৬ সালের যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন, যেখানে হিজবুল্লাহর কঠোর প্রতিরোধের মুখে ইসরায়েলি ট্যাংক বাহিনী কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top