স্বাধীনতা দিবসে বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন; বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়কে বিশ্বশক্তির স্বীকৃতি

৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রভাবশালী রাষ্ট্রসমূহ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পৃথক বার্তায় চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানগণ বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতার প্রশংসা করেছেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের গৌরবময় ক্ষণে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। তিনি বাংলাদেশকে এক বিশ্বস্ত প্রতিবেশী ও অংশীদার হিসেবে অভিহিত করে জানান, দুই দেশের সম্পর্ক রাষ্ট্র-রাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মডেল স্থাপন করেছে। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ সহযোগিতার মাধ্যমে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের শুভেচ্ছা ও নতুন অংশীদারিত্ব:

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশ যখন তার ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় শুরু করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই উদযাপন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি একটি মুক্ত ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তুলতে বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি দেন।

রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের বার্তা:

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি খোজিন ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আজ বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘গ্লোবাল সাউথের’ একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পাঠানো বার্তায় কমনওয়েলথ বন্ধন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কঠোর পরিশ্রমেরও স্বীকৃতি দেন।

প্রতিবেশী ও ইউরোপীয় মিত্রদের অভিনন্দন:

ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তার বার্তায় অভিন্ন ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক সংযোগের কথা উল্লেখ করে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের ভিত্তি সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। পাকিস্তান সরকার ও জনগণ বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছে। এছাড়া ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেল্লা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ‘নতুন পর্যায়কে’ সমর্থন জানিয়ে ইতালিতে থাকা কর্মঠ প্রবাসী বাংলাদেশিদের দুই দেশের সম্পর্কের মূল সেতু হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বিশ্বনেতাদের এই অভিন্ন শুভেচ্ছা বার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বশক্তির সহযোগিতামূলক মনোভাবেরই প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top