দেড় যুগ পর স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ; সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

২৬ মার্চ বিকেলে পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে স্মরণ করেন যে, তিনি নিজেও একটি সশস্ত্র বাহিনী পরিবারের সন্তান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি স্বাধীন রাষ্ট্রে সশস্ত্র বাহিনী গঠনের একটি সুনির্দিষ্ট ও পবিত্র উদ্দেশ্য থাকে, আর সেটি হলো দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। তিনি সেই মূল উদ্দেশ্যকে সমুন্নত রেখে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীকে বিশ্বমানের পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। তার মতে, একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেবল যুদ্ধের জন্য নয়, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও শান্তি নিশ্চিত করার প্রধান রক্ষাকবচ।

এর আগে সকাল পৌনে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী প্যারেড স্কয়ারে উপস্থিত হলে তিন বাহিনীর প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীগণ তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দেড় যুগ পর ফিরে আসা এই কুচকাওয়াজে স্থল ও আকাশপথে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার এক মনোজ্ঞ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। অশ্বারোহী প্যারেড কমান্ডারের রাজকীয় প্রবেশের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আয়োজনে অংশ নেয় সাঁজোয়া বহর, আর্টিলারি, সিগন্যালস, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং প্যারা কমান্ডোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কন্টিনজেন্ট। আকাশ থেকে প্যারাট্রুপারদের জাতীয় পতাকা নিয়ে অবতরণ এবং বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলোর রোমাঞ্চকর প্রদর্শনী উপস্থিত দর্শকদের বিমোহিত করে।

দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখান থেকে তিনি সরাসরি চলে যান শেরে বাংলা নগরে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে। সেখানে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সুরা ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় পর স্বাধীনতা দিবসের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও ঐতিহ্যবাহী রূপ ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top