ট্রাম্পের ১৫ দফা শর্ত বনাম ইরানের পাল্টা ৫ শর্ত: মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনায় চরম অনিশ্চয়তা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ‘১৫ দফা’ শান্তি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। বুধবার (২৫ মার্চ) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রস্তাব তেহরানে পৌঁছানো হলেও আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নেতৃত্বাধীন ইরান সরকার তা ‘অবাস্তব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। উল্টো তারা যুদ্ধবিরতির জন্য নিজস্ব ৫টি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ট্রাম্পের ১৫ দফা প্রস্তাবে যা ছিল:

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ইরানকে তাদের বিদ্যমান পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, নাতানজ ও ফোরদোর মতো প্রধান স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে সব আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে মার্কিন সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান প্রধান বিষয়গুলোতে সম্মত হয়েছে; তবে তেহরান একে ‘বাস্তববিবর্জিত’ বলে অভিহিত করেছে।

ইরানের পাল্টা ৫টি কঠোর শর্ত:

ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং ইরানি আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের প্রস্তাবের বিপরীতে যে দাবিগুলো পেশ করেছেন, তা ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের জন্য ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে:

১. নিরাপত্তা গ্যারান্টি: ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কখনোই ইরানের ওপর হামলা চালাবে না, এমন সুদৃঢ় নিশ্চয়তা।

২. হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ: বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকারী এই জলপথের ওপর ইরানের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব। মিশর যেভাবে সুয়েজ খাল থেকে শুল্ক নেয়, ইরানও সেভাবে জাহাজ থেকে ফি আদায় করতে চায়।

৩. মার্কিন ঘাঁটি প্রত্যাহার: মধ্যপ্রাচ্যের সকল দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও ঘাঁটি সম্পূর্ণ নির্মূল করা।

৪. আর্থিক ক্ষতিপূরণ: যুদ্ধের ফলে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান।

৫. শত্রুভাবাপন্ন সংবাদমাধ্যমের বিচার: ইরান-বিরোধী প্রচারণায় লিপ্ত সংবাদকর্মী ও প্রতিষ্ঠানকে ইরানের হাতে তুলে দেওয়া বা বিচারের আওতায় আনা।

কূটনৈতিক ধোঁয়াশা ও বর্তমান পরিস্থিতি:

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং ইসরায়েলি চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের এই দাবিগুলোকে ‘অবাস্তব’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন ঘাঁটি প্রত্যাহারের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে, ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি অভিযান বন্ধ এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বজায় রাখার অনুমতি না দিলে তারা কোনো চুক্তিতে যাবে না।

বর্তমানে দুই পক্ষ সরাসরি কথা না বলায় কাতার বা পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারীদের ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ। সংঘাত এখন চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালেও শান্তি আলোচনার এই বিপরীতমুখী অবস্থান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top