মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ৫৫তম বর্ষপূর্তিতে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বুধবার (২৫ মার্চ) এক বাণীতে তিনি শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে একটি জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা কেবল একটি ভূখণ্ডের বিজয় ছিল না; এটি ছিল ন্যায়, সাম্য ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠনের এক মহান অঙ্গীকার। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ ও বীরাঙ্গনাদের, যাদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ।
স্বৈরাচার মুক্তি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান:
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, স্বাধীনতার পর বারবার গণতন্ত্রের পথ বাধাগ্রস্ত করে জাতির ওপর স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের অন্ধকার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রকে বিদেশি শক্তির কাছে নতজানু করার অপচেষ্টাও হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই ভূখণ্ডের মানুষ কখনো পরাজয় মানেনি। সবশেষ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো শহীদের আত্মদানের বিনিময়ে জাতি স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও জাতীয় আত্মমর্যাদা ফিরে এসেছে।”
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা:
আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, “আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার—শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে আমরা গড়ে তুলবো একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা।” তিনি দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন থেকে একটি আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার ডাক দেন, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা সমানভাবে নিশ্চিত থাকবে।
নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান:
নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে সত্য, ন্যায় ও দেশপ্রেমের আদর্শে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের হাতেই রচিত হবে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। বাণীর শেষে তিনি দেশের শান্তি ও শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।







