মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট করে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম কুশীলব এবং সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে তাকে ডিবি পুলিশ আটক করে এবং মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) তাকে আদালতে তোলার প্রক্রিয়া চলছে।
মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সিন্ডিকেট: হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার
ঢাকা ডেস্ক: গত বছর ১১ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মালয়েশিয়ায় আদম পাচারের মাধ্যমে ১ হাজার ১২৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ১২টি মামলা দায়ের করে। এসব মামলার অন্যতম প্রধান আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, যিনি ‘ফাইভ-এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ শ্রমিকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফি-র চেয়ে ৫ গুণ বেশি অর্থ আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
সিন্ডিকেটের সদস্য ও অভিযুক্তরা:
দুদকের এই মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ছাড়াও সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
-
সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) এর স্ত্রী ও কন্যা।
-
সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী ও তার স্ত্রী।
-
সাবেক এমপি বেনজীর আহমদ এবং সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম বাছেক।
-
ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের মালিক মোহাম্মদ রূহুল আমিন।
তদন্ত সংস্থা জানায়, লোটাস কামাল ও নিজাম হাজারী সপরিবারে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী পালাতে পারেননি।
অভিযোগের ধরণ:
এজাহারের তথ্যমতে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিএমইটি ও বায়রা’র শর্ত ভঙ্গ করে সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার পরিবর্তে প্রতি শ্রমিকের কাছ থেকে প্রায় ৪-৫ লাখ টাকা আদায় করেছেন। এই অতিরিক্ত অর্থ অবৈধভাবে স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বর্ণাঢ্য ও বিতর্কিত অতীত:
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় ‘দুর্নীতি ও গুরুতর অপরাধ দমন টাস্কফোর্স’-এর প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন। সে সময় অনেক রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীর ওপর হয়রানির অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাকে ‘সেফ এক্সিট’ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় রাষ্ট্রদূত করে পাঠানো হয়। অবসরের পর তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে ২০১৮ সালে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বর্তমান আইনি অবস্থা:
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা ছাড়াও মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যার অভিযোগে ফেনীতে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। আজ আদালতে হাজির করে তার রিমান্ড আবেদন করা হবে।







