মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনার দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে ‘পূর্ণ বিজয়’ না আসা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড। সোমবার (২৩ মার্চ) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় বলে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি (AP) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
ইরানের খাতাম-আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি আলিয়াবাদি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, “ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় গর্বিত, বিজয়ী এবং অবিচল। আমাদের পূর্ণ বিজয় না আসা পর্যন্ত এই পথ চলা অব্যাহত থাকবে।”
সামরিক বাহিনীর অনড় অবস্থান:
জেনারেল আলিয়াবাদি ‘পূর্ণ বিজয়’ বলতে ঠিক কী বুঝিয়েছেন তা সুনির্দিষ্ট না করলেও, সামরিক বিশ্লেষকদের মতে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো আলোচনায় ছাড় না দেওয়ার একটি স্পষ্ট বার্তা। বিশেষ করে ট্রাম্প যখন দাবি করছেন যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা চলছে, তখন সামরিক বাহিনীর এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে ইরানের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থায় আলোচনার বিষয়ে তীব্র মতভেদ বা কঠোর প্রতিরোধ রয়েছে।
কূটনৈতিক বনাম সামরিক অবস্থান:
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন যে, ইরানের ওপর পুনরায় কোনো হামলা চালানো হবে না—এমন গ্যারান্টি পেলেই কেবল যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে। তিনি বর্তমানে আঞ্চলিক দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তবে সামরিক কমান্ডের এই ‘বিজয় না আসা পর্যন্ত লড়াই’ করার ঘোষণা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
প্রেক্ষাপট:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির বিষয়ে প্রধান বিষয়গুলোতে ঐকমত্য হয়েছে এবং এ কারণে তিনি ৫ দিনের জন্য হামলা স্থগিত করেছেন। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এখন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ড থেকেও সেই দাবিকে ভুয়া ও কৌশলগত অপপ্রচার হিসেবে অভিহিত করা হলো।







