ইরান-ইসরায়েল বসংঘাতের ২৬তম দিনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম নাটকীয় মোড় নিয়েছে। একদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে চাপ দিচ্ছেন, অন্যদিকে চীন ও ইরান সামগ্রিক যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এর মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধান বিমানবন্দর বেন গুরিয়নে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত সপ্তাহে বেশ কয়েকবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ইরানে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য জোরালো যুক্তি দিয়েছেন। যুবরাজ মনে করেন, এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যকে পুনর্গঠনের একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ এনে দিয়েছে এবং ইরান সরকারকে নির্মূল করার মাধ্যমেই কেবল উপসাগরীয় অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী হুমকি দূর করা সম্ভব। তবে সৌদি কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যুবরাজের এমন অবস্থানের কথা অস্বীকার করেছেন।
এদিকে, যুদ্ধের ময়দানে ইরান নতুন করে আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করেছে। আল-জাজিরার তথ্যমতে, ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে তারা ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কাছে একটি উড়োজাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ওই বিমানবন্দরের অবকাঠামো এবং হাইফা এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক ফোনালাপে দ্রুত শান্তি আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন। ওয়াং ই স্পষ্ট করে বলেন, “কথা বলা সবসময় যুদ্ধের চেয়ে ভালো; উত্তেজনাপূর্ণ সব বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নয়।” জবাবে আরাগচি জানান, ইরান শুধু অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়, বরং সামগ্রিকভাবে সংঘাতের অবসান ঘটাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, ইরান যদি বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পানির নিচে থাকা সাবমেরিন কেবলগুলো কেটে দেয়, তবে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে। এর ফলে শুধুমাত্র জ্বালানি সংকটই নয়, বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র- আলজাজিরা, নিউইয়র্ক টাইমস







